হজরত ফরিদপুরীর সঙ্গে চিত্রবাংলা প্রতিনিধির বিশেষ সাক্ষাৎকার

আটরশি দরবার । আটরশির কাফেলা sufibad24

হজরত ফরিদপুরীর সঙ্গে চিত্রবাংলা প্রতিনিধির বিশেষ সাক্ষাৎকারঃ চিত্রবাংলাঃ আপনার প্রচারিত নকশবন্দীয়া তরিকা এবং আপনার এ তরিকা প্রচার সম্পর্কে কিছু বলুন। হজরত ফরিদপুরীঃ (হেসে) এ সম্পর্কে তো আমি বহুবার বলেছি,বই পত্রে ও লেখা আছে প্রচুর। তাছাড়া এ তরিকা প্রচারের ইতিহাস এক দীর্ঘকাহিনী। এত অল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না। চিত্রবাংলাঃ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের নানা প্রকল্প পরিকল্পনায় আপনার ভুমিকা কি? হজরত ফরিদপুরীঃ বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আলীয়া মাদ্রাসা,ইসলামী গবেষনা কেন্দ্র ইত্যাদি স্থাপিত হয়েছে। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে জামে মসজিদের স্থান নির্বাচন হয়ে আছে। এ ছাড়া ইসলামী কলেজ, হেলথ কমপ্লেক্স প্রভৃতি প্রকল্পের পরিকল্পনাও রয়েছে।…

রমজানের তাৎপর্য ও ফজিলত

রমজানের তাৎপর্য ও ফজিলত

রমজানের তাৎপর্য ও ফজিলতঃ হিজরী বর্ষ পঞ্জিকার নবম মাসের নাম রমজান। এই মাস অত্যন্ত বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ। এই মোবারক মাসেই শ্রেষ্ঠতম আসমানী গ্রন্হ আল কুরআন নাযিল হয়। এই মাসেই ‘শবে কদর’ নিহিত। চান্দ বৎসরের বারো (১২) মাসের মধ্যে একমাত্র রমজান মাসের কথাই কুরআন মজীদে উল্লিখিত আছে। আল্লাহপাক বলেন, “রমজান সেই মাস, যাহাতে কুরআনকে অবতীর্ণ করা হইয়াছে।” (সূরা বাকারাহঃ১৮৫) ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। যথাঃ ঈমান, নামাজ, রোজা, যাকাত ও হজ্জ্ব। অন্যতম রোকন বা ভিত্তি ‘রোজা’র জন্য রমজান মাসকে নির্ধারণ করা হইয়াছে। রোজা কি? রোজা ফার্সী শব্দ। ইহার আভিধানিক অর্থ উপবাস।…

রোজা আল্লাহ্‌র নিকট প্রিয় হওয়ার কারণ

রোজা আল্লাহ্‌র নিকট প্রিয় হওয়ার কারণ

রোজা আল্লাহ্‌র নিকট প্রিয় হওয়ার কারণ শাহসূফী হযরত মাওলানা খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেব ফরমানঃ আল্লাহতায়ালা রোজাকে একান্ত আপনার বলিয়া ঘোষণা দিলেন- কেন? কি রহস্য আছে ইহাতে? এক্ষেত্রে রমজান শব্দের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। রমজান আরবী শব্দ। ইহার শাব্দিক অর্থ তাপাধিক্য বা তাপের উচ্চমাত্রা। ইহা “রমজ” ধাতু হইতে উৎপন্ন। ‘রমজ’- এর বুৎপত্তিগত অর্থ পোড়ান, জ্বালান বা দহন করা। রমজানের রোজা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় হওয়ার অন্তর্নিহিত রহস্য উক্ত রমজ (দহন) শব্দের মধ্যে নিহিত। ইহা সকলেরই জানা যে, খনিলব্ধ স্বর্ণ খাদ মিশ্রিত থাকে। খাদ মিশ্রিত স্বর্ণ ব্যবহার উপযোগী নহে। স্বর্ণকে ব্যবহার উপযোগী করিতে হইলে…

ঈদুল আযহার তাৎপর্য

ঈদুল আযহার তাৎপর্য

ঈদুল আযহার তাৎপর্যঃ “ঈদুল আয্হা” অর্থ কোরবানীর উৎসব। ইহা ঈদুল কুরবা বা ঈদুন নাহ’র নামেও অভিহিত। কোরবানী কি? মহান খোদাতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট নিয়মে পশু জবাই করাই কোরবানী। ‘আযহা’-র মূলে আছে ‘‘উয্‌হিয়া শব্দ”-যাহার অর্থ উৎসর্গিত পশু অর্থাৎ যে সব পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা হয়। কোরবানী অনুষ্ঠিত হয় ১০-ই যিলহজ্ব-যেইদিন মিনা উপত্যকায় হাজ্জীগণ কুরবানী করেন এবং তৎপরবর্তী দুইদিনে, মতান্তরে তিন দিনে। কোরবানীর উৎসব উদ্‌যাপনের মূলে আছে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর কোরবানীর আদর্শ স্মরণ ও অনুসরণ। আজ হইতে পাঁচ হাজার বৎসর পূর্বের কথা। স্বপেè প্রত্যাদৃষ্ট হইয়া…

মোমিন বান্দার পরিচয়

মোমিন বান্দার পরিচয়

মোমিন বান্দার পরিচয় “এখানে মর্দে মোমেনদের পরিচয় প্রয়োজন। মোমেন আর মোসলমান এক কথা নয়। ঈমান আনার পর মোসলমান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করা যায়; মোমেন স্বীকৃতি পাইতে বহু কাঠ-খড়ি পোড়াইতে হয়, বহু ত্যাগ তিতিক্ষা ও সাধনার প্রয়োজন হয়। মোমেনের পরিচয় দানের ক্ষেত্রে রাসূলে পাক (সাঃ) বলেন, মোমেন হইল সেই ব্যক্তি-যাহার নামাজে মেরাজ” সিদ্ধ হয় । الصلوة معراج المؤمنين অর্থাৎ-“নামাজ মোমেনের জন্য মেরাজ।” একজন সাধকের কখন মেরাজ বা খোদাতায়ালার দীদার নছিব হয়? যে সকল সাধক কামালাতে বেলায়েত ও কামালাতে নবুয়তের মাকাম সমূহ তয় করিয়া হকিকতে এলাহিয়ায়” (হকিকতে কুরআন, হকিকতে কাবা, হকিকতে সালাত)…

যেখানে এক কাঁতারে মানুষ

যেখানে এক কাঁতারে মানুষ sufibad

যেখানে এক কাঁতারে “মানুষ”  “তিঁনি (আমার হযরত পীর কেবলাজান) এদেশের হাজার হাজার শিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত, কলমপেশা, বুদ্ধিজীবী, উচ্চপদস্থ কর্মচারীকে শ্রমের মর্যাদা শিখিয়েছেন। নিজের হাতে কাজ করতে শিখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন সবাই মিলে সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করলে অতিবড় কাজও অল্প সময়ে সুচারুভাবে সংঘটিত হয়। এখানে (বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে) এসে গামছা কোমরে বেঁধে কুঠার নিয়ে গাছ কাটতে যান একজন এডিশনাল ডিপুটি কমিশনার। রাজমিস্ত্রীর হেলপারের কাজে মাথায় ইট বহন করেন ব্যাংকের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার। কাজে নেমে যান সিভিল ইঞ্জিয়ার, বাঁশের চালা তৈরীতে লেগে যান জজ ম্যাজিস্ট্রেট। কারো মনে সামান্য ভাবান্তর নেই। বরং জীবনের প্রান্তে এসে…

ইসলামে ক্ষুধা দর্শন

bbbbbb

নিজের বদঅভ্যাস গুলো পরিবর্তন করার জন্য ক্ষুধার্ত থাকা অনেক সহায়ক। নাফসকে নিয়ন্ত্রন করার অন্যতম উপায় ক্ষুধার্ত থাকা। একজন মানুষ যখন ক্ষুধার্ত পেটে থাকে রঙ্গিন দুনিয়া তাকে আর্কষন করে না। ক্ষুধার যন্ত্রনা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে যে, আপনি আল্লাহতায়ালার সামনে কতটা দুর্বল এবং অভাবী। ভরা পেটে হৃদয়ে অমনোযোগীতা সৃষ্টি হয় কিন্তু ক্ষুধার মাধ্যমে হৃদয় জেগে ওঠে। তৃপ্তি যেমন দেহকে ভারী করে তোলে তেমনি ক্ষুধা আত্নাকে আলোকিত করে। যার জন্য যুগে যুগে মহামানবগণ কখনই পেট পুরে আহার করেন নি। শাহসূফী হযরত মাওলানা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেব ফরমান, “আমার পীর কেবলাজান (খাজা এনায়েতপুরী রহ.)…

আমি তোমাদের বিনা সুতার এক মালায় গেঁথে দিলাম

আমি তোমাদের বিনা সুতার এক মালায় গেঁথে দিলাম sufibad

আমরা শাহসূফী হযরত মাওলানা খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু:ছে:আ:) ছাহেবের মুরিদ। হযরত পীর কেবলাজান সারা জীবনভর আমাদের মত পাপীদের জন্য আল্লাহতায়ালার দরবারে দুহাত তুলে কেঁদে গেছেন এখনও মহা পবিত্র রওজা মুবারকে আমাদের জন্য কাঁদেন। আমরা তিনার সাদের মুরিদান। ”মুরিদের পায় ফুটলে কাটা আগে টেরপান দয়াল বাবা” আমরা সবাই দয়াল বাবার মুরিদ সন্তান। আমাদের একজনের সাথে অন্যজনের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত সেই সম্পর্কে হযরত পীর কেবলাজানে ছাহেবের বাণী গুলো আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার ক্ষুদ্র প্রয়াস। হযরত পীর কেবলাজান ছাহেব ফরমান, “আমি তোমাদের বিনা সুতার এক মালায় গেঁথে দিলাম“ “জাকেররা আত্নীয়তায় বাঁধা- আপনাদের এ…

আমানত কী? এমন কী আমানত আল্লাহ্‌র কাছে থেকে এনেছেন

আমানত কী? এমন কী আমানত আল্লাহ্‌র কাছে থেকে এনেছেন sufibad

” তুলিতে নারিল আসমান আমানত ভার পড়িল ন্যস্ত তার দাও ভাগে পাগলার” অর্থাৎ ‘আমানত‘ যা আসমান জমিন গ্রহন করতে সাহস পেলোনা তার দায়িত্ব পড়ল পাগলার কাধে। এখানে লেখক পাগলা বলতে মানুষকে বুজিয়েছেন। আমানত খুবই সাংঘাতিক ব্যাপার। আমানতঃ আল্লাহপাকের গুনাবলির প্রতিবিম্ব যাহা মানুষকে প্রদান করা হইয়াছে তাহাই আমানত। এই আমানত মহান খোদাতায়ালাকে পুনরায় ফেরত দিবে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা কি আমানত মানুষ দিয়েছেন যা তিনি পুনরায় ফেরত চাইবেন। আল্লাহপাক মানুষকে সৃষ্টি করিয়া রুহ ফুকিয়া দিলেন। তারপর মানুষ কে তিনার (খোদার) সিফাতে হায়াত থেকে জীবন সিফাতে এলেম থেকে জ্ঞান-বিবেক সিফাতে…

রংপুরের জাকের ভাই

রংপুরের জাকের ভাই sufibad

রংপুর জেলায় খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের একজন মুরিদ থাকতেন। তিনি ব্যবসা করতেন। ব্যবসার কাজে তাকে নানা সময় বিভিন্ন দিকে যাতায়াত করতে হতো। একবার ব্যবসায়িক কাজে তিনি বাড়ী থেকে দুরবর্তী এক বাজারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে তার অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। অন্ধকার রাত, জংগলের ভিতর দিয়ে পথ। তিনি একা একা হাটছেন, মনে মনে একটু ভয়ও পাচ্ছিলেন। তবু হেটে চলেছেন। এমন সময় শুনতে পেলেন পিছন থেকে কে যেন তাকে ডাকছে আর বলছে, “দাঁড়াও বাবা, আর যেওনা”। তিনি বিষয়টিকে মনের ভ্রম মনে করলেন এবং হাঁটতে থাকলেন। আবার একই কন্ঠ, একই আহবান। তিনি…