রজব মাসের আমল

রজব মাসের আমল

মহান আল্লাহতায়ালা বারো মাসের মধ্যে চারটি মাসকে “আশহুরে হুরুম” তথা সম্মানিত ঘোষনা করেছেন। পবিত্র কোরআন মাজিদে মহান খোদাতায়ালা ফরমান, ” নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারোটি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে। সুতরাং তোমরা এই মাস সমূহে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।” এই চারটি সম্মানিত মাসের একটি হলো “রজব”। মহিমান্বিত রজব মাসে আপনাকে স্বাগতম- রজব মাসের আগমন হলে নবীজি  এই দোয়া বেশি পাঠ করতেন “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি-রাজাবি ওয়া শা’বানা ওয়া বাল্লিগনা রমাদ্বান”। এবং এই মাস থেকেই নবীজি  মাহে রমাদ্বানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করতেন। এই মাসে নিম্নোক্ত দশটি তাসবিহ…

রমজানে অনাহারে থাকার ফজিলত

রমজানে অনাহারে থাকার ফজিলত

রমজান মহা সম্মানিত মাস। রমজান সাধনার মাস। রমজান মাসে লম্বা সময় মানুষ অনাহারে থাকে। আজকে অনাহারে থাকার ফজিলত নিয়ে কিছু কথাঃ ” স্বর্নকে খাদমুক্ত করিতে হইলে যেমন নাইট্টিক এসিডে ফেলিয়া ইহার খাদসমূহকে জ্বালাইয়া ফেলিতে হয়, তবেই স্বর্ণ খাদমুক্ত হয়। তেমনি নাফসকে খাদমুক্ত করিতে হইলে তথা নাফসের অন্ধকার দোষসমূহ ঝাগিড়া ফেলিতে হইলে নাফসেও দাহন করা প্রয়োজন। কিন্তু জাগতিক আগুন দ্বারা কিংবা নাইট্টিক এসিড দ্বারা নাফসকে জ্বালানো যায় না। নাফসকে দাহনের জন্য যে অগ্নির প্রয়োজন হয় তাহা দেহে উৎপন্ন হয় কেবলমাত্র অনাহানের দ্বারা। একমাত্র অনাহারের অগ্নি নাফসকে জ্বালাইয়া ইহাকে খাদমুক্ত করিতে পারে।…

আমার আহলে বায়তের উপমা নূহ (আঃ)’র নৌকার মতই

আমার আহলে বায়তের উপমা নূহ (আঃ)'র নৌকার মতই sufibad24

হযরত রাসূলে পাক (সাঃ) ফরমান, “আমার আহলে বায়তের উপমা নূহ (আঃ)’র নৌকার মতই।” হিজরী তৃতীয় সনে হযরত আলী (রাঃ) ও হয়রত ফাতেমা (রাঃ) কোল জুড়ে আসলো তাঁহাদের প্রথম সন্তান হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)। হযরত রাসূল (সাঃ) এঁর কদমপাকে সুসংবাদ দেয়া হলো। তিঁনি সংবাদ পেয়ে দ্রুত ছুটে আসলেন। দু’হাতে তুলে নিলেন সদ্যপ্রসূত নাতিকে। কানে আযান দিলেন এবং গভীর ভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকলেন। গোটা মদিনায় আনন্দ-উৎসব। হযরত হাসান (রাঃ) ছাহেবের দুই বছর পূর্ণ না হতে দুনিয়ায় আগমন করলেন হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ)। জন্মের সাত দিনের দিন স্বয়ং রাসূল (সাঃ) মেষ/দুম্বা জবেহ…

পিপাসার কত গুলো স্তর হয়?

কারবালা

এক দিন কারাগারে ইমাম হুসাইন (আ) এর ছোট্ট মেয়ে সকিনা (আঃ) তিঁনার ভাই ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) কে প্রশ্ন করেন। আপনিতো এখন এই যুগের ইমাম আর ইমাম তো সব বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন। তাই আপনাকে একটা প্রশ্ন করছি, “পিপাসার কত গুলো স্তর হয়?” (পিপাসা কত ধরনের হয়) সকিনা(আঃ)-এর এই কথা শুনে হযরত যায়নাব (আঃ) কেঁদে অস্থির হয়ে সকিনা (আঃ) কে কোলে তুলে নিলেন আর বলেন তুমি কেন এমন প্রশ্ন করছো আমার ছোট্ট আদরের ভাতিজি ? ইমাম জয়নুল আবেদিন (আঃ) নিজ ফুপিকে বলেন, সকিনা তার নিজের যুগের ইমামের কাছে প্রশ্ন করেছে।…

ইসলাম যিন্দাহ হোতা হায় হার কারবালা কে বা’দ

ইসলাম যিন্দাহ হোতা হায় হার কারবালা কে বা'দ

ইসলাম যিন্দাহ হোতা হায় হার কারবালা কে বা’দ।” মহাকবি আল্লামা ইকবালের এ পংক্তিটি কারবালায় বিজয়ী ও পরাজিত শক্তিকে প্রমান করে। পরিস্কার জানিয়ে দেয় ইমাম হুসাইনই (রা.) বিজয়ী। বিজয়ী হুসাইনের অগ্রজ ইমাম হাসান (রা.)। বিজয়ী হুসাইনের গর্বিত পিতা বেলায়তের সূর্য মাওলা আলী (রা.)’র। সফলতার সৃষ্টি হুসাইনের রত্নাগর্ভা জননী খাতুনে জান্নাত মা-ফাতেমা (রা.)’র জন্য। বিজয় হুসাইনের নানিজান আল্লাহর সালাম পাওয়া সৌভাগ্যবতী খাদিজাতুল কুবরা (রা.)’র। বিজয় ধ্বনি হুসাইনের নানাজান ইমামুল আম্বিয়া নূর নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.)’র দান। বিজয় হুসাইন খান্দানের। বিজয় শুধু ৬১ হিজরী সনে নয়। এ বিজয়ের সূচনা দুনিয়া সৃষ্টির আগে।…

ইমাম হুসাইন (রাঃ) সম্পর্কে অন্য ধর্মের মনিষীদের উক্ত সমূহ

ইমাম হুসাইন (রাঃ) সম্পর্কে অন্য ধর্মের মনিষীদের উক্ত সমূহ

জান্নাতে যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) সম্পর্কে অন্য ধর্মের মনিষীদের উক্ত সমূহঃ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা মহাত্না গান্ধীঃ ” আমি মনে করি ইসলাম তরবারির জোরে নয় বরং ইমাম হুসাইন (রাঃ)’র চরম বা সব্বোর্চ আত্নত্যাগের ফলেই বিকশিত হয়েছে। ইমাম হুসাইন (রাঃ)’র মহত আত্নত্যাগের ব্যাপক প্রশংসা করছি এ কারনে যে তিনি মুত্যু ও পিপাসায় যাতনা সয়ে নিয়েছিলেন নিজের জন্য, নিজ সন্তানদের জন্য এবং নিজ পরিবারের জন্য, আর এই সবই সয়েছেন যাতে জালেম শাসকের কাছে নত হতে না হয়। মজলুম হওয়া অবস্থায় কিভাবে বিজয় অর্জন করতে হয় অামি তার শিক্ষা পেয়েছি ইমাম…

একজনের বেয়াদবির কারণে একটি গোত্রের সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে

একজনের বেয়াদবির কারণে একটি গোত্রের সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে sufibad 24 com

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব ‘আশরাফুল মাখলুকাত’। এই মানুষকে হেদায়েতের জন্য, ‘সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে আনয়নের জন্য আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে ১লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর মন্তান্তরে ২লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর (আঃ) দুনিয়ার বুকে প্রেরন করেন। আখেরী নবী (সাঃ) এঁর পর দুনিয়াতে লক্ষ লক্ষ আউলিয়া কেরাম মানুষকে হেদায়েতের পথে আহবান করেন। কিন্তু মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ প্রানী। নবী (আঃ) গনকে আঘাত করতে, অপবাদ দিতেও মানুষ দ্বিধা বোধ করে নাই। যখন আউলিয়াকেরামগণ হেদায়তের পথে মানুষকে আহবান করলো তখন ওলামে’ছু, মোনাফেকগণ তিঁনাদের উপর অতিমাত্রায় অত্যাচার, অপবাদ, অপপ্রচার করে। হযরত আব্দুল কাদের জেলানী (রাঃ) ছাহেব কে ঐ যুগের…

রাসূল (সাঃ) এর যে নামাজ আল্লাহ্‌র কাছে অধিক পছন্দ

রাসূল (সাঃ) এর যে নামাজ আল্লাহ্‌র কাছে অধিক পছন্দ

রাসূল (সাঃ) একদিন মসজিদ এ নববীতে আসরের নামাজ পড়াচ্ছিলেন । নবীজী (সাঃ) যখন সেজদায় গেলেন , হঠাৎই হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) তাঁর প্রিয় নানাজীর (সাঃ) পিঠের উপর উঠে বসে পড়লেন । ছোট্ট নাতি খেলার ছলে নানার পিঠে উঠে পড়েছে । সেজদাকালীন সময় মহানবী (সাঃ) নাতি হোসেনকে (আঃ) পিঠ থেকে নামাতেও পারছেন না । পাছে পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে নাতি যদি ব্যাথ্যা পায় ! কেননা ছোট্ট দুই নাতি ইমাম হাসান (আঃ) ও ইমাম হোসেনকে (আঃ) মহানবী (সাঃ) প্রচন্ড মহব্বত করতেন । তাঁদেরকে কেউ কষ্ট দিলে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) অন্তরে খুব ব্যাথ্যা…

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সৃষ্টির ফাউন্ডেশন – শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (রাঃ) ছাহেব

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সৃষ্টির ফাউন্ডেশন - শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (রাঃ) ছাহেব sufibad24

শাহসূফী হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেব ফরমান, “হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সৃষ্টির ফাউন্ডেশন।” হযরত রাসূল (সাঃ)কে সৃষ্টি না করিলে মহান খোদাতায়ালা আসমান-জমিন তথা কোনো কিছুই সৃষ্টি করিতেন না। আল্লাহতায়ালা ফরমান,” [হে মুহাম্মদ (সাঃ]! আমি যদি আপনাকে সৃষ্টি না করিতাম, তাহা হইলে আসমান, জমিন তথা কিছুই সৃষ্টি করিতাম না।” মহান খোদাতায়ালা পরিচিত হইবার মাধ্যম ই রাসূল (সাঃ)। রাসূল (সাঃ)কে সৃষ্টি না করিলে মহান খোদাতায়ালা গোপনই থাকিতেন। মহান খোদাতায়ালা সর্বপ্রথম রাসূল (সাঃ) এঁর নূর মোবারক সৃষ্টি করেন সেই সম্পর্কে হযরত পীর কেবলাজান পবিত্র নসিহত শরীফের ৮ম খন্ডের ১১৮ নং পৃষ্টায় ফরমান, “হযরত আলী…

আসহাবে সুফফা

আসহাবে সুফফা

প্রিয় রাসূল (সাঃ) এর মহব্বতে দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে যারা মসজিদে নববী পড়ে থাকতেন তিঁনারাই অাসহাবে সুফফা। দিবা-রাত্রি রসূলের মহব্বত আর আল্লাহ ইবাদতে মশগুল থাকাই ছিলো তিঁনাদের কাজ। আল্লাহপাক কোরআন মাজিদে ফরমান, ” যারা দিন-রাত আল্লাহকে ডাকে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের স্বীয় সহচার্য হতে দূরে সরিয়ে রাখবেন না” – সূরা- আল আনআমঃ৫২ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) ফরমান, “একদিন রাসূল (সাঃ) আসহাবে সুফফাগনেন কাছে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন, অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা সত্ত্বেও তাঁরা আনন্দিত। তিঁনি তাদের বললেন, ” হে আসহাবে সুফফা! তোমাদের ও অামার ঐসব উম্মতের জন্য সুসংবাদ…