চলুন এবার আটরশি যাই

চলুন এবার আটরশি যাই

চলুন এবার আটরশি যাই

শীতের পাতাঝরা দিনের শেষে ফাল্গুনে যখন শিমুল গাছের লাল ফুল দিয়া প্রকৃতি সাজিয়ে থাকে, তখন আমাদের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহা পবিএ উরস শরিফ আসিয়া যায়।

সকলের মাঝে একটা উৎসবের আমেজ উদ্ভূত হয়। দরবার শরীফের চারিদিকেও সাজ সাজ রব পড়িয়া যায়। উরস উপলক্ষে দরবারও নানা রঙে সাজিতে থাকে।

জাকেররা পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে ধূলি উড়াইতে উড়াইতে গরুর কাফেলা লইয়া দরবারমুখি হয়।
এইভাবে যে যেইভাবে পারে দরবারে উপস্থিত হয়। সে দৃশ্য বাংলার অতি সাধারন মানুষের ভক্তিস্নেহে মাখা এক বিরল প্রতিচ্ছবি।
কৃষকের হাতে মিষ্টিকুমড়া, গেরস্তের মাথায় ক্ষেতের ধান, বালকের হাতে আদরের ছাগল, ছেঁড়া বোরকা ঢাকা বয়স্ক মায়ের কোলে যত্নের মোরগ।
মহব্বত প্রদানের এই দৃশ্য কঠিন হৃদয়কেও কোমল করিতে বাধ্য।

আল্লাহ্‌ আকবার খচিত সুউচ্চ পত পত নিশান উড়াইয়া দরবার যেন এক আধ্যাত্নিক মহাসাগরে ভাসিয়া ভাসিয়া কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষে যাইতে থাকে।
আমরা যে যেখানে পারি অবস্থান লই। গাছতলা, বাশতলা, পুকুরচালা, আটচালা, গোয়ালঘর সর্বত্র থাকে নাড়ার বিছানা, নাকে আসে খড়ের মিষ্টি গন্ধ।

সর্বত্র মেলামেশা মাখামাখি পুনঃমিলনের নব অনন্দ আর খেদমতের উৎসাহ। কি এক প্রকার উৎফুল্ল মনের সজীবতা বিরাজমান।
বৃদ্ধরাও তখন প্রাণশক্তির বলে কোমরে লাল গামছা বাঁধিয়া যুবকদেরকে হার মানায়। শুরু হয় প্রাণ চঞ্চলতা আর মানব সাগরের উত্তাল ঢেউ।
মহামিলনের পরিতৃপ্ত মেলা। বঞ্চিত, নিপীড়িত, মেহনতি দুঃখী মানুষের উৎফুল্লতার এই বুঝি সব চাইতে বড় সুযোগ। এই তাহাদের আশ্রয়, এই তাহাদের একমাত্র শান্তির নীড়।

যন্ত্রণা-বেদনা লাঘব করিবার সঠিক জায়গা। ঐক্যবদ্ধ ইসলাম পালনের ইচ্ছায় এ এক মহাসমাবেশ।
আগামী ১৭,১৮,১৯ ও ২০ ই ফেব্রুয়ারী-২০২৪ ইং বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে শাহসূফী হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের মহা পবিত্র উরস শরীফ উদযাপিত হইবে।
আপনারা আমন্ত্রীত।

Related posts

Leave a Comment