ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তোমরা সবাই ফরিদপুরের নৌকায় যাও

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪
  • / ২৪০১ বার পড়া হয়েছে

তোমরা সবাই ফরিদপুরের নৌকায় যাও

Sufibad.com - সূফিবাদ.কম অনলাইনের সর্বশেষ লেখা পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পীরের নির্দেশেই খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) জন্মস্থান শেরপুর থেকে ফরিদপুর হিজরত করেছিলেন। ফরিদপুর থেকে নৌকাযোগে এনায়েতপুরের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য যেতেন। হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) সাহেবের দরবারে তাঁর নিজ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত শেষ উরশ শরীফে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) কয়েকটি নৌকা নিয়ে ফরিদপুর থেকে এনায়েতপুর দরবার শরীফে যান সঙ্গী সাথী নিয়ে। যথাযথ ভাবে উরশ শরীফ সমাপ্ত হলো। সবার সাথে খাজাবাবা ফরিদপুরী ( কুঃ) কেও বিদায় দিলেন হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ)। চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে আশেকানসকল বিদায় হলেন নিজ নিজ গৃহের দিকে। খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) ও সঙ্গী সাথীদের নিয়ে নৌকা ছেড়ে রওনা হলেন ফরিদপুরের দিকে।

এ সময় হুজরা শরীফের ভিতর থেকে হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) বার কয়েক সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমরা সবাই ফরিদপুরের নৌকায় যাও।” পীরের পবিত্র জবান থেকে একথা শুনে হাজার হাজার জাকেরান আশেকান ছুটলেন খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) এর নৌকার দিকে। খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) সকলকে তাঁর নৌকার দিকে আসতে দেখে বললেন, “মিয়াভাই আপনারা সবাই আমার নৌকার দিকে আসছেন, আমার নৌকাতো আসার সময় প্যাসেঞ্জার ভর্তি ছিল। তাছাড়া এ কয়টা নৌকায় হাজার হাজার লোক নেয়াতো সম্ভব নয়”। তখন জাকেরানগণ জবাব দিলেন, “হুজুর পাক যে বারবার হুকুম দিচ্ছেন আপনার নৌকায় যাবার জন্য”।

 

পীরের হুকুম রহস্যময় যা যাকে উদ্দেশ্য করে বলা সেই বুঝতে পেরেছে। তাই মৃদু হেসে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) জবাব দিলেন, “মিয়াভাই, কামেল ওলীর কথা, কি বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা ভাল করে চিন্তা করে দেখেন গিয়ে”। অর্থাৎ এ উরশ শরীফ ছিল এনায়েতপুরী (কুঃ) সাহেবের জীবনের শেষ উরশ। তাই তিনি পরবর্তীতে  এলমে তাসাউফের জ্ঞানার্জনের জন্য খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) এর কাছে যাবার আহবান জানিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্ববাসীকে। আর খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) সাহেবের দরবার পরবর্তীকালে ইসলামিক চর্চা ও আত্মিক সাধনার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে রূপ লাভ করেছে যা হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) সাহেবের ভবিষ্যৎ বাণীতে ঈঙ্গিত ছিল।

 

তথ্যঃমহা মোজাদ্দেদ হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) – (বইটি কিনতে ক্লিক করুন)

আরো পড়ুনঃ 

ব্লগটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

Discover more from Sufibad.Com - সূফীবাদ.কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

তোমরা সবাই ফরিদপুরের নৌকায় যাও

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪

পীরের নির্দেশেই খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) জন্মস্থান শেরপুর থেকে ফরিদপুর হিজরত করেছিলেন। ফরিদপুর থেকে নৌকাযোগে এনায়েতপুরের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য যেতেন। হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) সাহেবের দরবারে তাঁর নিজ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত শেষ উরশ শরীফে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) কয়েকটি নৌকা নিয়ে ফরিদপুর থেকে এনায়েতপুর দরবার শরীফে যান সঙ্গী সাথী নিয়ে। যথাযথ ভাবে উরশ শরীফ সমাপ্ত হলো। সবার সাথে খাজাবাবা ফরিদপুরী ( কুঃ) কেও বিদায় দিলেন হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ)। চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে আশেকানসকল বিদায় হলেন নিজ নিজ গৃহের দিকে। খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) ও সঙ্গী সাথীদের নিয়ে নৌকা ছেড়ে রওনা হলেন ফরিদপুরের দিকে।

এ সময় হুজরা শরীফের ভিতর থেকে হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) বার কয়েক সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমরা সবাই ফরিদপুরের নৌকায় যাও।” পীরের পবিত্র জবান থেকে একথা শুনে হাজার হাজার জাকেরান আশেকান ছুটলেন খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) এর নৌকার দিকে। খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) সকলকে তাঁর নৌকার দিকে আসতে দেখে বললেন, “মিয়াভাই আপনারা সবাই আমার নৌকার দিকে আসছেন, আমার নৌকাতো আসার সময় প্যাসেঞ্জার ভর্তি ছিল। তাছাড়া এ কয়টা নৌকায় হাজার হাজার লোক নেয়াতো সম্ভব নয়”। তখন জাকেরানগণ জবাব দিলেন, “হুজুর পাক যে বারবার হুকুম দিচ্ছেন আপনার নৌকায় যাবার জন্য”।

 

পীরের হুকুম রহস্যময় যা যাকে উদ্দেশ্য করে বলা সেই বুঝতে পেরেছে। তাই মৃদু হেসে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) জবাব দিলেন, “মিয়াভাই, কামেল ওলীর কথা, কি বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা ভাল করে চিন্তা করে দেখেন গিয়ে”। অর্থাৎ এ উরশ শরীফ ছিল এনায়েতপুরী (কুঃ) সাহেবের জীবনের শেষ উরশ। তাই তিনি পরবর্তীতে  এলমে তাসাউফের জ্ঞানার্জনের জন্য খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) এর কাছে যাবার আহবান জানিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্ববাসীকে। আর খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) সাহেবের দরবার পরবর্তীকালে ইসলামিক চর্চা ও আত্মিক সাধনার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে রূপ লাভ করেছে যা হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) সাহেবের ভবিষ্যৎ বাণীতে ঈঙ্গিত ছিল।

 

তথ্যঃমহা মোজাদ্দেদ হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) – (বইটি কিনতে ক্লিক করুন)

আরো পড়ুনঃ