ঢাকা ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পীরের আওলাদের প্রতি খাজাবাবা ফরিদপুরীর মহব্বত

  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪
  • / ২৪৪৪ বার পড়া হয়েছে

পীরের আওলাদের প্রতি খাজাবাবা ফরিদপুরীর মহব্বত

Sufibad.com - সূফিবাদ.কম অনলাইনের সর্বশেষ লেখা পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দাদাপীর হযরত এনায়েতপুরী (কুঃছিঃআঃ) সাহেবের ছোট সাহেবজাদা খাজা আব্দুল কুদ্দুছ সাহেব নারায়নগঞ্জ থেকে “আল মাহদী” নামক একটি মাসিক পত্রিকা বের করতেন। ১৯৭২ সাল থেকে আমি সে পত্রিকায় কাজ করতাম। সেটাও খাজাবাবারই নির্দেশে। পত্রিকাটি ছিল সম্পূর্ণ ইসলাম ভিত্তিক। পত্রিকাটি সে সময় বহুল প্রচারিত ছিল। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। একবার কিসের ছুটিতে দরবার শরীফে যাবার মনস্থ করলাম। পত্রিকা অফিসে গিয়ে খাজা সাহেবকে বললাম। তিনি হাসি মুখে বিদায় দিলেন। বিদায়ের মুহূর্তে আমাকে বললেন, “বাবা আমি একবার আটরশিতে যেতে চাই, মাওলানা ভাইকে বলবেন”।

আমি উত্তর দিলাম, “বলব”। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, খাজা আব্দুল কুদ্দুছ সাহেবকে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছিঃআঃ) সাহেব ‘ছোট হুজুর’ বলে সম্বোধন করতেন। সে কারণে আমরাও তাঁকে ‘ছোট হুজুর’ বলেই সম্বোধন করতাম। যাহোক, আমি দরবার শরীফে গেলাম। গিয়ে খাজাবাবার খেদমতে হাজির হয়েই কথাটা জানালাম। বললাম, “বাবা, ছোট হুজুর আমাদের দরবারে আসতে চান”। যেই বলা সাথে সাথে খাজাবাবা অর্ধশায়িত অবস্থা থেকে একেবারে বসে গেলেন। বললেন, “বল কি বাবা! ছোট হুজুর এখানে আসতে চান! আমি উনাকে কোথায় রাখব, কি দিয়ে ইজ্জত করবো? তুমি বরং বাবা আবার চলে যাও, গিয়ে ছোট হুজুরের কাছে আমার কদমবুছি জানিয়ে বলবে, ছোট হুজুরের কি প্রয়োজন আমি তা নিজে গিয়ে দিয়ে আসবো। এখনই খেয়ে চলে যাও বাবা”। ক্লান্ত অবসন্ন শরীর। তবুও আবার রাতের লঞ্চে ঢাকা রওয়ানা হলাম।

পরদিন সকালে ছোট হুজুরের আজিমপুরস্থ বাসায় গেলাম। ছোট হুজুর তো আমাকে দেখে অবাক। জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি না জাকের মঞ্জিলে গেলেন, এলেন কখন?”। উত্তর দিলাম, “হুজুর, আপনার কথা বলার সাথে সাথে হুজুর কেবলা আমাকে আবার আপনার কাছে পাঠিয়েছেন, কদমবুছি জানিয়ে জানতে চেয়েছেন আপনার কোন কিছুর দরকার আছে কিনা যার জন্য আপনি আমাদের দরবারে যেতে চেয়েছেন। হুজুরপাক বলেছেন আপনি বললে হুজুর নিজে এসে আপনাকে তা দিয়ে যাবেন”। ছোট হুজুর কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, তারপর নিজে নিজে মন্তব্য করলেন, “যে যত বড়, তার বিনয় তত বেশী। এ ধরণের আদবের জন্যই মাওলানা ভাই এত বড় ওলী হয়েছেন, আল্লাহ্ পাক তাঁকে দয়া করেছেন”।

অতঃপর আমাকে বললেন, “আমার তেমন কিছুই দরকার নেই বাবা, বলবেন আগামীতে এনায়েতপুর দরবার শরীফে উনার সাথে দেখা হবে, তখন কথা হবে, আপনি আবার দরবারে চলে যান”। সেখান থেকে বের হয়ে আমি সোজা দরবারে চলে গেলাম। এশার নামাজের পরপর দরবার শরীফে পৌঁছে খাজাবাবাকে পশ্চিমের হুজরা শরীফে পেলাম। বাবাজান আমাকে দেখেই ডাক দিলেন, “বাবা আসো, কি বললেন ছোট হুজুর?”। আমি সব কথা গুছিয়ে বলতে পারলামনা, শুধু এটুকু বললাম যে, আগামীতে এনায়েতপুর দরবার শরীফে দেখা হবে এবং তখন কথা হবে একথাই ছোট হুজুর জানালেন। হুজুরপাক তখন বললেন, “বাঁচলাম বাবা, বড় দুশ্চিন্তায় ছিলাম কাল থেকে। কি হুকুমই না জানি করে বসেন ছোট হুজুর, এ চিন্তায় আমার শোওয়া-বসা কিছুই ভাল লাগছিলনা”।

তখন প্রসঙ্গ টেনে বললেন, “বাবা এনায়েতপুর দরবার শরীফ থেকে জাকের মঞ্জিল পর্যন্ত স্বর্ণ দিয়ে রাস্তা বাধাঁই করে তার উপর দিয়ে মাথায় করে আনলেও আমার পীরজাদার ইজ্জত করা হবেনা। তাই আমি পীরজাদাদেরকে আমাদের দরবারে আসার কথা বলিনা, কারণ কোন কিছু দিয়েই তাঁদের ইজ্জত করা হবেনা”। এই ছিল আমার দয়াল বাবার আদবের ধরণ। এমন আরও অনেক ঘটনা আছে যা বর্ণনা করতে গেলে শেষ করা সম্ভব নয়।

 

আরো পড়ুনঃ 

ব্লগটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

Discover more from Sufibad.Com - সূফীবাদ.কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

পীরের আওলাদের প্রতি খাজাবাবা ফরিদপুরীর মহব্বত

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪

দাদাপীর হযরত এনায়েতপুরী (কুঃছিঃআঃ) সাহেবের ছোট সাহেবজাদা খাজা আব্দুল কুদ্দুছ সাহেব নারায়নগঞ্জ থেকে “আল মাহদী” নামক একটি মাসিক পত্রিকা বের করতেন। ১৯৭২ সাল থেকে আমি সে পত্রিকায় কাজ করতাম। সেটাও খাজাবাবারই নির্দেশে। পত্রিকাটি ছিল সম্পূর্ণ ইসলাম ভিত্তিক। পত্রিকাটি সে সময় বহুল প্রচারিত ছিল। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। একবার কিসের ছুটিতে দরবার শরীফে যাবার মনস্থ করলাম। পত্রিকা অফিসে গিয়ে খাজা সাহেবকে বললাম। তিনি হাসি মুখে বিদায় দিলেন। বিদায়ের মুহূর্তে আমাকে বললেন, “বাবা আমি একবার আটরশিতে যেতে চাই, মাওলানা ভাইকে বলবেন”।

আমি উত্তর দিলাম, “বলব”। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, খাজা আব্দুল কুদ্দুছ সাহেবকে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছিঃআঃ) সাহেব ‘ছোট হুজুর’ বলে সম্বোধন করতেন। সে কারণে আমরাও তাঁকে ‘ছোট হুজুর’ বলেই সম্বোধন করতাম। যাহোক, আমি দরবার শরীফে গেলাম। গিয়ে খাজাবাবার খেদমতে হাজির হয়েই কথাটা জানালাম। বললাম, “বাবা, ছোট হুজুর আমাদের দরবারে আসতে চান”। যেই বলা সাথে সাথে খাজাবাবা অর্ধশায়িত অবস্থা থেকে একেবারে বসে গেলেন। বললেন, “বল কি বাবা! ছোট হুজুর এখানে আসতে চান! আমি উনাকে কোথায় রাখব, কি দিয়ে ইজ্জত করবো? তুমি বরং বাবা আবার চলে যাও, গিয়ে ছোট হুজুরের কাছে আমার কদমবুছি জানিয়ে বলবে, ছোট হুজুরের কি প্রয়োজন আমি তা নিজে গিয়ে দিয়ে আসবো। এখনই খেয়ে চলে যাও বাবা”। ক্লান্ত অবসন্ন শরীর। তবুও আবার রাতের লঞ্চে ঢাকা রওয়ানা হলাম।

পরদিন সকালে ছোট হুজুরের আজিমপুরস্থ বাসায় গেলাম। ছোট হুজুর তো আমাকে দেখে অবাক। জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি না জাকের মঞ্জিলে গেলেন, এলেন কখন?”। উত্তর দিলাম, “হুজুর, আপনার কথা বলার সাথে সাথে হুজুর কেবলা আমাকে আবার আপনার কাছে পাঠিয়েছেন, কদমবুছি জানিয়ে জানতে চেয়েছেন আপনার কোন কিছুর দরকার আছে কিনা যার জন্য আপনি আমাদের দরবারে যেতে চেয়েছেন। হুজুরপাক বলেছেন আপনি বললে হুজুর নিজে এসে আপনাকে তা দিয়ে যাবেন”। ছোট হুজুর কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, তারপর নিজে নিজে মন্তব্য করলেন, “যে যত বড়, তার বিনয় তত বেশী। এ ধরণের আদবের জন্যই মাওলানা ভাই এত বড় ওলী হয়েছেন, আল্লাহ্ পাক তাঁকে দয়া করেছেন”।

অতঃপর আমাকে বললেন, “আমার তেমন কিছুই দরকার নেই বাবা, বলবেন আগামীতে এনায়েতপুর দরবার শরীফে উনার সাথে দেখা হবে, তখন কথা হবে, আপনি আবার দরবারে চলে যান”। সেখান থেকে বের হয়ে আমি সোজা দরবারে চলে গেলাম। এশার নামাজের পরপর দরবার শরীফে পৌঁছে খাজাবাবাকে পশ্চিমের হুজরা শরীফে পেলাম। বাবাজান আমাকে দেখেই ডাক দিলেন, “বাবা আসো, কি বললেন ছোট হুজুর?”। আমি সব কথা গুছিয়ে বলতে পারলামনা, শুধু এটুকু বললাম যে, আগামীতে এনায়েতপুর দরবার শরীফে দেখা হবে এবং তখন কথা হবে একথাই ছোট হুজুর জানালেন। হুজুরপাক তখন বললেন, “বাঁচলাম বাবা, বড় দুশ্চিন্তায় ছিলাম কাল থেকে। কি হুকুমই না জানি করে বসেন ছোট হুজুর, এ চিন্তায় আমার শোওয়া-বসা কিছুই ভাল লাগছিলনা”।

তখন প্রসঙ্গ টেনে বললেন, “বাবা এনায়েতপুর দরবার শরীফ থেকে জাকের মঞ্জিল পর্যন্ত স্বর্ণ দিয়ে রাস্তা বাধাঁই করে তার উপর দিয়ে মাথায় করে আনলেও আমার পীরজাদার ইজ্জত করা হবেনা। তাই আমি পীরজাদাদেরকে আমাদের দরবারে আসার কথা বলিনা, কারণ কোন কিছু দিয়েই তাঁদের ইজ্জত করা হবেনা”। এই ছিল আমার দয়াল বাবার আদবের ধরণ। এমন আরও অনেক ঘটনা আছে যা বর্ণনা করতে গেলে শেষ করা সম্ভব নয়।

 

আরো পড়ুনঃ