কুরআনের আলোকে দরুদ শরীফের গুরুত্ব
দরুদ শরীফ: গুরুত্ব, ফজিলত ও উত্তম কিছু দরুদ
- আপডেট সময় : ০১:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২৪৭৮ বার পড়া হয়েছে
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো দরুদ শরীফ পাঠ। নবী করিম হযরত মুহাম্মদ ﷺ–এর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো দরুদ। একজন মুমিনের ঈমান তখনই পূর্ণতা লাভ করে, যখন তার অন্তরে নবী ﷺ–এর প্রতি গভীর মহব্বত জন্ম নেয়, আর সেই মহব্বতের বাস্তব প্রকাশ ঘটে দরুদ পাঠের মাধ্যমে।
কুরআনের আলোকে দরুদ শরীফের গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা নিজেই পবিত্র কুরআনে নবী ﷺ–এর প্রতি দরুদ পাঠ করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং মুমিনদের আদেশ করেছেন—
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অর্থ:
নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর উপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর উপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।
📖 (সূরা আহযাব: ৫৬)
এই আয়াত প্রমাণ করে, দরুদ পাঠ শুধু নফল ইবাদত নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত একটি সম্মানিত নির্দেশ।
দরুদ শরীফ কী
দরুদ অর্থ দোয়া, রহমত ও প্রশংসা। শরিয়তের পরিভাষায়, নবী মুহাম্মদ ﷺ–এর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি কামনা করাকেই দরুদ বলা হয়। দরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর নিকট বিশেষ নৈকট্য লাভ করে।
দরুদ পাঠ না করার ভয়াবহতা
নবী ﷺ বলেছেন—
“যার সামনে আমার নাম উচ্চারণ করা হলো অথচ সে আমার উপর দরুদ পাঠ করল না, সে কৃপণ।”
📚 (তিরমিজি)
আরেক হাদিসে এসেছে—
“সে ব্যক্তি লাঞ্ছিত হোক, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে দরুদ পাঠ করল না।”
📚 (মুসনাদে আহমাদ)
দরুদ পাঠের মাধ্যমে—
✔ আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়
✔ গুনাহ ক্ষমা হয়
✔ দোয়া কবুল হয়
✔ রিজিক ও বরকত বৃদ্ধি পায়
✔ অন্তর নূরানী হয়
✔ কিয়ামতের দিন নবী ﷺ–এর শাফাআত লাভ হয়
নবী ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত নাজিল করেন।”
📚 (সহিহ মুসলিম)
উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ কিছু দরুদ শরীফ
১. দরুদে ইব্রাহিম (সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ)
আরবি
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ
إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ
إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আ-লি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বারাক্তা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আ-লি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
ফজিলত
- নামাজে পড়া আবশ্যক
- নবী ﷺ–এর শেখানো দরুদ
- সব দরুদের মধ্যে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ
২. দরুদে তুনাজ্জিনা (বিপদ মুক্তির দরুদ)
আরবি
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ صَلَاةً تُنَجِّينَا بِهَا مِنْ جَمِيعِ الْأَهْوَالِ وَالْآفَاتِ
বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ, সালাতানতুনাজ্জিনা বিহা মিন জামিইল আহওয়ালি ওয়াল আফাত।
ফজিলত
- বিপদ ও দুর্যোগ থেকে রক্ষা
- ভয়, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা দূর করে
৩. দরুদে শিফা (রোগ নিরাময়ের দরুদ)
আরবি
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ طِبِّ الْقُلُوبِ وَدَوَائِهَا، وَعَافِيَةِ الْأَبْدَانِ وَشِفَائِهَا
ফজিলত
- রোগব্যাধি থেকে আরোগ্য
- অন্তরের ব্যথা ও কষ্ট দূর হয়
৪. সংক্ষিপ্ত দরুদ শরীফ আরবি
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ
ফজিলত
- অল্প আমলে অধিক সওয়াব
- যেকোনো সময় পাঠযোগ্য
দরুদ পাঠের উত্তম সময়
📌 ফজরের পর
📌 জুমার দিন ও রাত
📌 দোয়ার শুরু ও শেষে
📌 আজানের পর
📌 নবী ﷺ–এর নাম শুনলে
দরুদ শরীফ হলো মুমিনের আত্মার খোরাক। যে ব্যক্তি নিয়মিত দরুদ পাঠ করে, তার জীবন নূরে ভরে ওঠে। দুনিয়ার সংকট ও আখিরাতের ভয়াবহতা থেকে বাঁচার অন্যতম মাধ্যম হলো দরুদ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আরো পড়ুন:
- ইসলামে বিবাহের গুরুত্ব ও ফজিলত
- সে যে রাজার রাজা মহারাজা, দয়াল বাবা খোদে খাজা
- দরূদ শরিফের গুরুত্ব, ফজিলত ও দোয়া কবুলের রহস্য
- নফস কী ও কেন? একটি বিশদ বিশ্লেষণ















