তাদের সংখ্যা এত বেশি হবে যে পৃথিবীর পানি পর্যন্ত তারা পান করে শেষ করে ফেলবে
ইয়াজুজ-মাজুজ : কোরআন ও হাদিসের আলোকে শেষ যুগের ভয়ংকর জাতি
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৪৮৮ বার পড়া হয়েছে
কিয়ামতের পূর্ববর্তী মহা আলামতসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো ইয়াজুজ ও মাজুজ (يأجوج ومأجوج)। তারা এমন এক ধ্বংসাত্মক জাতি, যাদের আবির্ভাব পৃথিবীতে ব্যাপক অরাজকতা, রক্তপাত ও ধ্বংস ডেকে আনবে। কোরআন ও হাদিসে তাদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও ভীতিকর বর্ণনা পাওয়া যায়।
ইয়াজুজ-মাজুজ নামের অর্থ
ইয়াজুজ ও মাজুজ শব্দ দুটি এসেছে “أجّ” ধাতু থেকে, যার অর্থ—
দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, আগুনের মতো জ্বলে ওঠা, সীমাহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
কোরআনে ইয়াজুজ-মাজুজের উল্লেখ
১. যুলকারনাইনের প্রাচীর ও ইয়াজুজ-মাজুজ
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তারা বলল, হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ এ দেশে ভীষণ বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।”
📖 সূরা কাহফ: ৯৪
যুলকারনাইন তখন তাদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এক সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করেন।
“এটা আমার প্রতিপালকের রহমত। অতঃপর যখন আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি আসবে, তখন তিনি এটিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন।”
📖 সূরা কাহফ: ৯৬
অর্থাৎ, কিয়ামতের পূর্বে এই প্রাচীর ভেঙে যাবে।
২. কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে তাদের মুক্তি
আল্লাহ বলেন—
“যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে, তখন তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে ছুটে আসবে।”
📖 সূরা আম্বিয়া: ৯৬
এ আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—তাদের আবির্ভাব কিয়ামতের বড় আলামত।
হাদিসে ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে বিস্তারিত
১. তাদের সংখ্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“ইয়াজুজ-মাজুজ এমন এক জাতি, যারা যা পাবে সব ধ্বংস করে ফেলবে।”
📚 সহিহ মুসলিম
অন্য হাদিসে এসেছে—
তাদের সংখ্যা এত বেশি হবে যে পৃথিবীর পানি পর্যন্ত তারা পান করে শেষ করে ফেলবে।
২. তারা কীভাবে প্রাচীর ভাঙবে
হাদিসে এসেছে—
- প্রতিদিন তারা প্রাচীর খুঁড়বে
- সন্ধ্যায় বলবে: “কাল আবার আসবো”
- কিন্তু একদিন বলবে: “ইনশাআল্লাহ”
- তখনই আল্লাহ তাদের মুক্ত করে দেবেন
📚 মুসনাদ আহমদ (হাদিসের অর্থগত সারসংক্ষেপ)
৩. ঈসা (আ.)-এর সময়ে ইয়াজুজ-মাজুজ
দাজ্জাল ধ্বংসের পর—
ইয়াজুজ-মাজুজ বের হবে ঈসা (আ.)-এর যুগে।
📚 সহিহ মুসলিম
তাদের ভয়ে ঈসা (আ.) মুমিনদের নিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নেবেন।
ইয়াজুজ-মাজুজের ধ্বংস
মানুষ তাদের ধ্বংস করতে পারবে না। তখন—
আল্লাহ বিশেষ কীট বা পোকা পাঠাবেন,
যা তাদের ঘাড়ে আক্রমণ করে এক রাতেই সবাইকে ধ্বংস করে দেবে।
📚 সহিহ মুসলিম
এরপর পৃথিবীতে এমন দুর্গন্ধ ছড়াবে যে—
- আল্লাহ পাখি পাঠাবেন
- তারা লাশ সরিয়ে ফেলবে
- এরপর প্রবল বৃষ্টি দিয়ে পৃথিবী পরিষ্কার করা হবে
ইয়াজুজ-মাজুজ থেকে আমাদের শিক্ষা
১. আল্লাহর কুদরতের প্রতি ঈমান
মানবশক্তি যত বড়ই হোক, আল্লাহর সামনে কিছুই নয়।
২. কিয়ামতের প্রস্তুতি
ইয়াজুজ-মাজুজের আলোচনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—এই দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়।
৩. দোয়া ও তাকওয়া
শেষ যুগের ফিতনা থেকে বাঁচতে আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই।
ইয়াজুজ-মাজুজ কেবল ইতিহাস বা গল্প নয়—এটি কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এক বাস্তব সত্য। তাদের আবির্ভাব মানবজাতির জন্য এক মহাপরীক্ষা হবে। অতএব, আমাদের কর্তব্য হলো—
ঈমান মজবুত করা, কোরআন-সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করা।
“হে আল্লাহ! শেষ যুগের সকল ফিতনা থেকে আমাদের রক্ষা করুন।” আমিন।
আরো পড়ুন:















