গোপন অঙ্গের লোম পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম ও ইসলামিক বিধান
বগলের ও গোপন অঙ্গের লোম কত দিন অন্তর পরিষ্কার করা সুন্নত?
- আপডেট সময় : ১১:১৯:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৪৮৬ বার পড়া হয়েছে
ইসলামিক পরিচ্ছন্নতা বা ‘ফিতরাত’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ইসলামের বিধান ও সময়সীমা
ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। গোপন অঙ্গের লোম পরিষ্কার করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং এটি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার (তহারাত) অন্তর্ভুক্ত।
লোম কাটার সর্বোচ্চ সময়সীমা
শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম (বগল ও নাভির নিচের লোম) পরিষ্কার করার সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ৪০ দিন। এর বেশি সময় পার করা মাকরূহে তাহরীমি (গুনাহের কাজ)। তবে সর্বোত্তম আমল হলো প্রতি সপ্তাহে জুমার দিন পরিষ্কার করা। যদি সপ্তাহে সম্ভব না হয়, তবে ১৫ দিনে একবার, আর তাতেও না হলে অন্তত ৪০ দিনের মধ্যে অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে।
দলিলসমূহ
১. সহীহ মুসলিমের বর্ণনা
হযরত আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ানো এবং নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যেন আমরা তা ৪০ দিনের বেশি রেখে না দেই।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৮)
২. সহীহ বুখারীর বর্ণনা
রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন: “ফিতরাত (মানুষের স্বভাবজাত সুন্নত) পাঁচটি: খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ানো এবং গোঁফ ছোট করা।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৫৮৯১)
কিছু জরুরি নিয়ম ও শিষ্টাচার
* পদ্ধতি: নাভির নিচের লোম কাটার ক্ষেত্রে ক্ষুর, ব্লেড, কাঁচি বা লোমনাশক ক্রিম ব্যবহার করা জায়েয। তবে ক্ষুর বা ব্লেড ব্যবহার করা সুন্নতের অধিক নিকটবর্তী।
* সীমানা: নাভির নিচ থেকে শুরু করে লিঙ্গ ও অণ্ডকোষের চারপাশ এবং মলদ্বারের আশেপাশের লোম পরিষ্কার করা জরুরি।
* দিনের শ্রেষ্ঠত্ব: জুমার দিন (শুক্রবার) গোসলের আগে এসব পরিষ্কার করা মুস্তাহাব বা উত্তম।
* নির্জনতা: এই কাজগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে করা উচিত। স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সামনে সতর উন্মুক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
পরিষ্কারের সময় – হুকুম / মান
প্রতি সপ্তাহে (শুক্রবার) – সর্বোত্তম (মুস্তাহাব)
১৫ দিনে একবার – ভালো (জায়েয)
৪০ দিন পর্যন্ত – অনুমোদিত সীমা
৪০ দিনের বেশি – গুনাহ / মাকরূহে তাহরীমি
পরিচ্ছন্নতা কেবল ইবাদতের প্রস্তুতির জন্য নয়, বরং এটি সুস্থতা ও রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই সুন্নতগুলো নিয়মিত পালন করা।
আরো পড়ুন:















